আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ইনফোবায়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপের পুরস্কার বিতরণীতে স্কালোনির নেতৃত্বাধীন আকাশি-সাদা দলটি ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। স্পেনের খেলোয়াড়েরা ট্রফি তুলে ধরার পুরো সময় আর্জেন্টিনা দল মাঠে থেকে অনুষ্ঠান দেখেছে। গত ২০ বছরের বিশ্বকাপ ইতিহাসে এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল—২০১৪ সালের আর্জেন্টিনা ছাড়া প্রায় কোনো রানার্সআপ দলই এমনটি করতে পারেনি।

ফিরে দেখা যাক ২০১৪ সাল। সেবার সাবেলার অধীনে আর্জেন্টিনা ২৪ বছর পর আবার ফাইনালে ওঠে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের মাঠ মারাকানায় তাদের প্রতিপক্ষ ছিল স্বাগতিকদের ৭-১ গোলে হারানো জার্মানি। অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনা হেরে যায়। গ্যালারির ব্রাজিল সমর্থকেরা জার্মানির শিরোপা জয়ে উল্লাস করলেও রুপার পদক নেওয়ার পর আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়েরা মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে জার্মানির বিশ্বসেরা হওয়ার মুহূর্ত দেখেছিলেন।
জয়সূচক গোলের নায়ক গোটসে পুরস্কার বিতরণীর পর মেসির সঙ্গে ছবি তোলার অনুরোধ করেন। সদ্য হারের যন্ত্রণা সত্ত্বেও মেসি প্রতিপক্ষের সেই অনুরোধ রেখেছিলেন।
এর বিপরীতে, আগের কয়েকটি বিশ্বকাপের অধিকাংশ রানার্সআপ দলই সেই মুহূর্তের সাক্ষী না থাকার পথ বেছে নিয়েছিল।
২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ: ইনিয়েস্তার জয়সূচক গোলে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে স্পেন যখন প্রথমবার, অর্থাৎ 1ম বার, শিরোপা জেতে, রানার্সআপ ‘কমলা বাহিনী’ পদক নিয়েই দ্রুত ড্রেসিংরুমে ফিরে যায়। ক্যাসিয়াসের ট্রফি তোলা তারা মাঠে থেকে দেখেনি।
২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে মস্কোর বৃষ্টিভেজা রাতে ক্রোয়েশিয়া ফ্রান্সের কাছে ৪-২ গোলে হারে। মদরিচ ও তাঁর সতীর্থেরা বিশ্বজুড়ে সম্মান অর্জন করলেও হারের তীব্র যন্ত্রণায় পুরস্কার নেওয়ার পর তাঁরাও মাঠ ছেড়ে যান; এমবাপ্পেদের উল্লাস তাঁদের দেখা হয়নি।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে লুসাইল স্টেডিয়ামে একই দৃশ্য আবার দেখা যায়। সম্মানের প্রতীক ‘সোনালি পাড়ের কালো আলখাল্লা’ পরে মেসি যখন ট্রফি তুলতে প্রস্তুত হচ্ছিলেন, ফ্রান্সের পুরো দল নিজেদের সমর্থকদের অভিবাদন জানিয়ে খেলোয়াড়দের টানেলে চলে যায়।
গত রোববারের ফাইনালের পর আর্জেন্টিনাকেও আবার একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। তবে এবারও তারা মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। খেলোয়াড়েরা রুপার পদক খুলে ফেলেননি, ড্রেসিংরুমে ফিরতেও তাড়াহুড়া করেননি; বরং সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষের উদ্যাপন দেখেছেন।
