‘বিল্ড’-এর খবর অনুযায়ী, অবসরের পর সাবেক বুন্দেসলিগা মিডফিল্ডার কামপল তারকা পরিচয়ের আড়ম্বর ছেড়ে স্পেনের মায়োর্কা দ্বীপে নিজের এস্টেটে থিতু হয়েছেন। সেখানে কৃষিকাজ ও সবজি চাষ করে ফল-ফসলের গ্রামীণ জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।

৩৫ বছর বয়সী কামপলের বুন্দেসলিগায় সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা রয়েছে। ক্যারিয়ারে তিনি বায়ার লেভারকুসেন, বরুসিয়া ডর্টমুন্ড ও আরবি লাইপজিগের হয়ে খেলেছেন। গত শীতে একের পর এক ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির পর আনুষ্ঠানিকভাবে পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন।

জানা গেছে, তাঁর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ভাই ও প্রিয় বন্ধু সেকি আকস্মিকভাবে মাত্র ৫১ বছর বয়সে মারা যান। এই দুঃসংবাদই তাঁর অবসরের সিদ্ধান্তের সরাসরি কারণ হয়ে ওঠে। ভাইয়ের মৃত্যুর পর কামপল স্ত্রী ভানেসা ও দুই ছেলে জর্দি ও লুইসকে নিয়ে সপরিবারে নিজের শহর জোলিঙ্গেনে ফেরেন এবং পরিবারের পাশে থেকে শোক সামলানোর চেষ্টা করেন।
সম্প্রতি ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্বীপের জীবনের কিছু মুহূর্ত ভাগ করেছেন তিনি। মায়োর্কায় নিজের খামারে খড়ের টুপি পরা কামপল সবজিবাগানের ফলন দেখিয়েছেন; সাবেক পেশাদার ফুটবলার যেন পুরোপুরি এক গ্রামীণ কৃষকে রূপ নিয়েছেন।
ছবিটি নিয়ে ‘বিল্ড’-কে তিনি বলেন, “আমরা খরমুজ, তরমুজ, টমেটো, পেঁয়াজ, ক্যাপসিকামসহ আরও অনেক ফসল ফলিয়েছি। এখন সবকিছু দারুণভাবে বেড়ে উঠছে। নিজেদের তৈরি অলিভ অয়েলের স্বাদও খুব চমৎকার।”
ভাইয়ের মৃত্যুর মাত্র ৭ মাস পর বাবার অসুস্থতাজনিত মৃত্যুর আরেকটি আঘাত আসে কামপলের জীবনে। ছয় মাসের কিছু বেশি সময়ে পরপর ২ জন নিকটাত্মীয়কে হারানোর গভীর ধাক্কা তাঁকে সহ্য করতে হয়েছে।
কামপল বলেন, “কোনো রাখঢাক না করেই বলছি, বছরটি ছিল একেবারে ভয়াবহ। জীবনকে সামনে এগিয়ে নিতেই হয়, কিন্তু সবকিছু শান্তভাবে মেনে নেওয়া অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। সৌভাগ্যক্রমে মায়োর্কার এই শান্ত ও স্বস্তিদায়ক জীবন এখন আমাদের পুরো পরিবারকে সেরে উঠতে সাহায্য করছে।”
জানা গেছে, লাইপজিগের প্রতি কামপলের টান এখনো অটুট। তিনি বলেন, “দলের সব খবর আমি সবসময় অনুসরণ করব, এই আবেগ কখনো বদলাবে না। ভবিষ্যতেও প্রায়ই লাইপজিগে ফিরব। সামনে কী হবে, তা এখনো অজানা।”
এর আগে অবসর নিয়ে ‘বিল্ড’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ৫ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চান—এমন প্রশ্নে কামপল হেসে বলেছিলেন, “আমি লাইপজিগের কোচ হতে চাই।”
