দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘন মামলার অভিযুক্ত সময়কালে ম্যানচেস্টার সিটির জেতা সব ট্রফি যদি কেড়ে নেওয়া হয় এবং সেই সম্মান সংশ্লিষ্ট বছরের রানার্সআপ দলকে দেওয়া হয়, তবে ইংলিশ ফুটবলের শিরোপার মানচিত্র আমূল বদলে যাবে। লিভারপুল হবে সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীদের একটি, এমনকি স্টোক সিটি ও ওয়াটফোর্ডও নিজেদের ইতিহাসে বড় সম্মান পাবে।

২০২৪ সালে লিভারপুল ছাড়ার পর ক্লপকে ম্যানচেস্টার সিটির শিরোপা কেড়ে নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেছিলেন: 'যদি শিরোপা উদযাপনের বাস প্যারেড হয়, আমি অবশ্যই থাকব! যত দিনই অপেক্ষা করতে হোক, আমার আপত্তি নেই।' সিটির ট্রফি ফিরিয়ে নেওয়া হলে লিভারপুল হবে সবচেয়ে বড় বিজয়ীদের একটি, আর প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত 'শিরোপা হাতছাড়ার ট্র্যাজেডি'র সমাপ্তিও বদলে যেতে পারে।

২০১৩/১৪ মৌসুমে স্টিভেন জেরার্ডের সেই চড়া মূল্যের ভুল, বল থামাতে গিয়ে পিছলে পড়ে যাওয়া, একের পর এক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে এবং শেষ পর্যন্ত ম্যানচেস্টার সিটি তাদের ইতিহাসের দ্বিতীয় প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জেতে। এই সমান্তরাল বাস্তবতায় ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে ৩-০ গোলে এগিয়ে থেকেও ড্র করার সেই 'ক্রিস্টাল প্যালেস দুঃস্বপ্ন' ঘটবেই, কিন্তু পরিণতি উল্টে যাবে: ক্লপ নন, ব্রেন্ডন রজার্সই হবেন লিভারপুলের প্রথম প্রিমিয়ার লিগজয়ী প্রধান কোচ। সব মিলিয়ে লিভারপুলের ঝুলিতে যোগ হবে ৩টি প্রিমিয়ার লিগ ও ১টি লিগ কাপ শিরোপা।

একসময় চরম বিতর্কিত ব্যানারে আর্তেতার আর্সেনালকে 'চিরকালের রানার্সআপ' বলে বিদ্রূপ করা হয়েছিল। আর বর্তমান চ্যাম্পিয়ন এই দলটি ২০২২/২৩ মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগ ট্রফি নিজেদের শোকেসে তুলতে পারবে, যা অভিযোগের আওতাভুক্ত শেষ মৌসুম। আর্সেনাল ২০১৮ সালের লিগ কাপ শিরোপাও পাবে।

স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের অবসরের পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এক অন্ধকার দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে গেছে, আর এখন সেই ইতিহাস নতুন করে লিখতে হবে, যার শুরু সেই বিখ্যাত 'আগুয়েরো!' মুহূর্ত থেকে। ২০১১/১২ মৌসুমের শেষ ম্যাচের সেই জয়সূচক গোলকে প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসের সবচেয়ে ক্লাসিক মুহূর্ত বলা হয়। কিন্তু সিটির সম্মান বাতিল হলে সেই জমকালো উদযাপনের পাশে বসবে বিশাল এক তারকাচিহ্ন, আর এই কিংবদন্তি কাহিনি মূলত তার আসল তাৎপর্য হারাবে। ফার্গুসনের সম্মানের তালিকায় যোগ হবে আরও একটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা।
হোসে মরিনহো কি তখনই কিছু একটা আঁচ করেছিলেন? তিনি একবার বলেছিলেন, ২০১৮ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে রানার্সআপ করা তার সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জনগুলোর একটি; সেবার গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটি অল্প ব্যবধানে এগিয়ে থেকে টানা পাঁচ শিরোপার প্রথম লিগ শিরোপা জিতেছিল। আর এখন মরিনহো পেতে পারেন তার বহু আকাঙ্ক্ষিত চ্যাম্পিয়ন পদক। মরিনহোর উত্তরসূরি সুলশারও পাবেন ২০২০/২১ মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা।
২০২৩ সালের ট্রেবল? আর থাকবে না। এফএ কাপ যাবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে, প্রিমিয়ার লিগ আর্সেনালের কাছে, আর চ্যাম্পিয়নস লিগ ইন্টার মিলানের কাছে।
সিটির এই সম্মানগুলো বাতিল হলে ইংলিশ ফুটবলের চিত্র পুরোপুরি বদলে যাবে। গত চার মৌসুমে চারটি ভিন্ন লিগ চ্যাম্পিয়ন দেখা যাবে; ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রতি বছরের লিগ চ্যাম্পিয়নও হবে ভিন্ন ভিন্ন দল।
ম্যানচেস্টার সিটির সেই অপ্রতিরোধ্য, এখন প্রতারণার দায়ে অভিযুক্ত গৌরবময় যুগের শুরু হয়েছিল ২০১১ সালের এফএ কাপ ফাইনালে স্টোক সিটিকে ১-০ গোলে হারিয়ে। আর টনি পুলিসের স্টোক সিটি এখন নিজেদের গৌরবের স্বাদ পাবে; ২০১৯ সালের ফাইনালে ০-৬ গোলে বিধ্বস্ত ওয়াটফোর্ডের ক্ষেত্রেও একই কথা।
অভিযুক্ত সময়কালে ম্যানচেস্টার সিটি মোট ৭টি প্রিমিয়ার লিগ, ১টি চ্যাম্পিয়নস লিগ, ৩টি এফএ কাপ ও ৬টি লিগ কাপ জিতেছে। আর এখন মোট ১০টি ভিন্ন দল নিজেদের শিরোপা উদযাপন করতে পারবে। সারা বিশ্ব ম্যানচেস্টার সিটির চূড়ান্ত শাস্তির রায়ের অপেক্ষায়। চূড়ান্ত শাস্তি যা-ই হোক, প্রতারণার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার কলঙ্ক মুছতে এক প্রজন্ম লেগে যাবে।
